
আজকাল ঢাকাসহ বাংলাদেশের বড় শহরগুলোতে “সাবলেট” শব্দটি খুবই পরিচিত। বিশেষ করে যারা একা থাকেন বা কোনো পরিবার অস্থায়ীভাবে বাসা খুঁজছেন, তাদের জন্য সাবলেট বাসা হতে পারে সবচেয়ে সহজ সমাধান।
কিন্তু অনেকেই এখনো জানেন না, সাবলেট আসলে কী, এটি কিভাবে কাজ করে, আর এর সুবিধা বা ঝুঁকি কী কী। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
“সাবলেট” শব্দটি এসেছে ইংরেজি Sublet থেকে, যার অর্থ হলো —
“নিজে ভাড়া নেওয়া বাসার একটি অংশ বা পুরোটা আবার অন্য কাউকে ভাড়া দেওয়া।”
অর্থাৎ, আপনি যদি কোনো বাসা বা রুম মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে থাকেন, এবং পরে সেই বাসার একটি রুম বা অংশ অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেন (ভাড়ার বিনিময়ে), সেটাই সাবলেট।
👉 উদাহরণ:
রুবেল সাহেব ধানমন্ডিতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছেন। ফ্ল্যাটে তিনটি রুম। তিনি দুই রুমে থাকেন এবং একটি রুম অন্য একজন চাকরিজীবীকে মাসিক ভাড়ায় দিয়েছেন — এই প্রক্রিয়াটিই সাবলেট।
ঢাকা শহরের বাড়তি ভাড়ার চাপ এবং একা থাকার কারণে এখন অনেকেই সাবলেট পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন।
একদিকে যারা বাসার কিছু অংশ খালি রাখেন, তারা বাড়তি আয় করতে পারেন।
অন্যদিকে যারা স্বল্প ভাড়ায় থাকার জায়গা খোঁজেন, তাদের জন্য এটি একটি সাশ্রয়ী সমাধান।
একটি পুরো ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার চেয়ে সাবলেটে থাকা অনেক কম খরচে হয়।
যাদের বাজেট সীমিত (যেমন ছাত্রছাত্রী, নতুন চাকরিজীবী), তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।
যদি আপনার ফ্ল্যাটে একটি রুম খালি থাকে, তাহলে সেটি সাবলেট দিলে মাসে কয়েক হাজার টাকা আয় হতে পারে — যা আপনার ভাড়া বা অন্যান্য খরচ সামলাতে সাহায্য করবে।
ToletBD.app-এর মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এখন সহজেই “সাবলেট” ফিল্টার করে খোঁজা যায়।
অবস্থান, বাজেট, রুম টাইপ অনুযায়ী উপযুক্ত সাবলেট লিস্ট দেখা সম্ভব।
অনেক সময় সাবলেট রুমমেট হয়ে ওঠে ভালো বন্ধুও। বিশেষ করে একা থাকা মানুষদের জন্য এটি মানসিকভাবে সহায়ক।
সাবলেট দেওয়ার আগে অবশ্যই মূল মালিকের অনুমতি নিতে হবে।
চুক্তিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা জরুরি যে “সাবলেট ভাড়া দেওয়া যাবে”।
না হলে পরবর্তীতে আইনগত ঝামেলা হতে পারে।
সাবলেটে পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বিল সাধারণত ভাগাভাগি করে দিতে হয়।
আগেই নির্ধারণ করুন কে কত অংশ দেবে, যাতে ভুল বোঝাবুঝি না হয়।
সাবলেট দেওয়ার আগে ভাড়াটিয়ার (Tenant) পরিচয় ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করে নিন।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করা নিরাপত্তার জন্য জরুরি।
সাবলেটে থাকা মানে বাসার কিছু অংশ শেয়ার করা।
তাই গোপনীয়তা কিছুটা কমে যেতে পারে — এ বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।
সাবলেট করার সময় একটি লিখিত সাবলেট চুক্তিপত্র (Sublet Agreement) তৈরি করা ভালো। সেখানে থাকতে হবে:
সাবলেট ভাড়াটিয়ার নাম, মোবাইল ও NID নম্বর
মাসিক ভাড়া ও বিল বণ্টনের শর্ত
আগাম টাকা (ডিপোজিট) ফেরতের নিয়ম
রুম ছাড়ার সময়সীমা ও নোটিশ পিরিয়ড
মালিকের অনুমতির উল্লেখ
এই চুক্তি ছোট কাগজেও হতে পারে — কিন্তু লিখিতভাবে থাকলে ভবিষ্যতে কোনো ঝামেলা হলে সেটি আইনি প্রমাণ হিসেবে কাজে আসবে।
আজকাল সাবলেট খোঁজা বা পোস্ট করা অনেক সহজ।
ToletBD.app ওয়েবসাইটে আপনি মাত্র কয়েক মিনিটে করতে পারেন:
📢 সাবলেট রুমের বিজ্ঞাপন পোস্ট
🔍 লোকেশন ও বাজেট অনুযায়ী ফিল্টার সার্চ
📸 রুমের ছবি ও বিস্তারিত তথ্য যোগ করা
📞 সরাসরি মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ
এভাবে আপনি নিরাপদ ও দ্রুত সাবলেট রুম খুঁজে পেতে পারেন।